[প্রবন্ধের সার-সংক্ষেপ: রাজনৈতিকতা, গণতন্ত্র ও আধুনিকতা- বাঙালি মুসলমানের জীবনে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। ঔপনিবেশিক আমলে তারা যে সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে, তা ভুমিকা রেখেছে স্বতন্ত্র কিন্তু প্রতিনিধিত্বশীল পরিচয় নির্মাণে। সামাজিকভাবে প্রান্তিক অবস্থান, শিক্ষায় পশ্চাৎপদতা ও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মতো সংকট তাদেরকে পরিণত করেছে পৃথক কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে। ইউরোপীয় শাসনের অধীনে আইনি সংস্কার, নির্বাচনী রাজনীতি ও বাংলার মুসলিম জনগোষ্ঠীর তাতে অংশগ্রহণের প্রয়াস থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা ঘটে প্রতিনিধিত্বের নতুন ধারার। ১৮৫৫ সালে আঞ্জুমানে ইসলামি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মুসলমানদের মধ্যে যে সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়, তা ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক আত্মসচেতনতার রূপ লাভ করে। ঔপনিবেশিক আমল যখন সমাপ্তি ঘটলো, তখন সেই চেতনা মন্ত্রীসভা তথা প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্রের যুগে প্রবেশ করেছে। এভাবে পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি পর্যন্ত বাংলার মুসলমানের এ আচরণ ও তৎপরতারকে সমকালীন মুসলিম বিশ্বে গণতন্ত্র বিকাশের সমান্তরালে পাঠ করা যায়। বর্তমান প্রবন্ধের উদ্দেশ্য সমকালীন মুসলিম বিশ্বের আধুনিকায়নের প্রেক্ষিতে ঔপনিবেশিক বাংলায় মুসলিম জনগোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক তৎপরতার বিকাশকে পুনর্পাঠ করা।]
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫, রোজ বুধবার, সেন্টার ফর ইসলামিকেইট বেঙ্গলের (সিআইবি) আয়োজনে “ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি মুসলমানের গণতান্ত্রিক তৎপরতা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিখ্যাত লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও অ্যাকটিভিস্টগণ। তারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন ঔপনিবেশিক আমলে বাঙালি মুসলমানের মাধ্যমে চর্চিত গণতন্ত্রের অবস্থা। উঠে আসে সিপাহি যুদ্ধের পর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বাংলা মুসলমানদের দ্বারা জনপরিসর তৈরি, রাজনৈতিক দল গঠন ও মন্ত্রীসভা গঠনের অভিজ্ঞতার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পটভূমি।