[প্রবন্ধের সার-সংক্ষেপ: দক্ষিণ এশিয়ার বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে অন্যতম প্রধান স্তম্ভ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভি। জ্ঞানের অন্যান্য শাখার মতো সমাজ ও সভ্যতা নিয়েও তার বোঝাপড়া মৌলিক। মানব সমাজের গঠন ও বিবর্তনের ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি যে ‘ইরতিফাকাত’ তত্ত্ব সামনে এনেছেন, তা আদিম সমাজ থেকে বৈশ্বিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দেয়। তবে তিনি কেবল সমাজের পরিবর্তন ব্যাখ্যার মধ্যেই সীমিত রাখেননি আলোচনা; সামনে এনেছেন মানুষের সঙ্গে প্রকৃতি ও ধর্মের সম্পর্ককেও। সমাজ ব্যাখ্যায় তিনি যে পথে হেঁটেছেন, তা সমকালীন ইউরোপীয় সমাজতাত্ত্বিক হবস, লক ও রুশোর সমাজ ও রাষ্ট্রদর্শনের বিপরীতে বিকল্প এক প্রস্তাব সামনে আনে। এছাড়া সমাজ পরিবর্তনে তার ব্যাখ্যা পরবর্তীতে এ অঞ্চলের মুসলিম সমাজ সংস্কারকদের প্রভাবিত করেছে ব্যাপকভাবে। দুঃখজনকভাবে শাহ ওয়ালিউল্লাহর সমাজচিন্তার তাত্ত্বিক ও দার্শনিক দিক বুদ্ধিবৃত্তিক মহলে সে অর্থে আলোচিত নয়। বর্তমান প্রবন্ধের প্রধান লক্ষ্য শাহ ওয়ালিউল্লাহর সমাজ ও সভ্যতা কেন্দ্রিক ‘ইরতিফাকাত তত্ত্ব’ কে গভীরভাবে পাঠ ও পর্যালোচনা করা। পাশাপাশি ধ্রুপদি মুসলিম চিন্তার সঙ্গে তুলনামূলক পাঠের প্রচেষ্টা। আধুনিক মুসলিম মনন ও সমাজ ব্যাখ্যায় যা ব্যাপকভাবে প্রাসঙ্গিক।]
গত ২৯ জুন ২০২৫, রোজ বৃহস্পতিবার, সেন্টার ফর ইসলামিকেইট বেঙ্গলের (সিআইবি) আয়োজনে “শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির ইরতিফাকাত তত্ত্ব: সভ্যতার অগ্রগতির দার্শনিক পাঠ” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত এ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দেশের বরেণ্য লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও অ্যাকটিভিস্টগণ। তারা বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরেন উপমহাদেশের সমাজ ও দর্শন চিন্তার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব শাহ ওয়ালিউল্লাহর ইরতিফাকাত তত্ত্ব নিয়ে। উঠে আসে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তার চিন্তার অবস্থান, পরবর্তী হিন্দুস্তানের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে তার চিন্তার প্রভাব ও সমকালীন বাংলায় তার প্রাসঙ্গিকতার নানা দিক।