বহু মতের বুঝাপড়াপূর্ণ সহ-অবস্থানই বাংলার সাংস্কৃতিক চরিত্র। ব-দ্বীপের এ ঐকতানিক রূপ সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয় উনিশ ও বিশ শতকে চর্চিত সাহিত্যে; যখন বাংলায় ইউরোপীয় আধুনিকায়নের প্রভাব বিস্তৃতি লাভ করছিল। প্রতিনিধিত্বশীল সে সব সাহিত্যিক নিদর্শনের মধ্যে অন্যতম হাতেম তাই। দোভাষী তথা মুসলমানি বাংলা, সাধু বাংলা, পদ্য ও গদ্য মিলিয়ে ওড়িশা থেকে আসাম পর্যন্ত জনপ্রিয় ছিল হাতেমের নাম। কাহিনী লেখক কিংবা কবির পরিচয় ভেদে যেমন ভিন্নতা পেয়েছে; তেমনি ভিন্ন হয়ে উঠেছে সময়ের ওপর নির্ভর করে। বয়ানের ভিন্নতা একই সঙ্গে বাংলার ক্ষমতাকাঠামোয় পরিবর্তন, আধুনিকতার প্রসার ও সাংস্কৃতিক গতিপথ সম্পর্কে ধারণা দেয়।
বাংলার লোকসাহিত্য নিয়ে চর্চার ইতিহাস দীর্ঘ হলেও বিপুল জনপ্রিয় এ কিসসাকে একাডেমিক দিক থেকে পাঠ করা হয়নি। গত ১ নভেম্বর, ২০২৫ সালে সেন্টার ফর ইসলামিকেট বেঙ্গল ব-দ্বীপের কসমোপলিটান বৈশিষ্ট্য নিয়ে যে সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে; তা সুযোগ করে দেয় হাতেম তাই নিয়ে কাজের। সে অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধেরই পুস্তিকা রূপে প্রকাশিত হলো। প্রবন্ধের উদ্দেশ্য ছিল বাংলার সাংস্কৃতিক কুলজি তালাশ করা। ইতিহাস ও সংস্কৃতির গবেষক ও পাঠকরা যদি উপকৃত হয়; সেটাই প্রবন্ধের সার্থকতা।