গ.২ হেনরী করবিন ও Mundus Imaginalis
জগতে মানুষের অবস্থান সম্পর্কীয় কাণ্ডজ্ঞান হল, যেকোন বস্তু বা অবজেক্ট যেভাবে কোন স্পেস তথা স্থানে মওজুদ বা পড়ে থাকে বা অবস্থান করে, সে একই ধরণেই আমরা জগতে অবস্থান করি। এখানে, স্থান একটা স্বয়ম্ভু ব্যাপার। কিন্তু হাইডেগার আমাদের শিখিয়েছেন, জগতে একজনের ওয়াজুদের যে ধরণ বা হাজিরা তথা মওজুদ থাকার যে রূপ, সে ধরণ বা রূপই সময় ও স্থান সম্পর্কে তার বোঝাপড়াকে ‘নির্দিষ্ট’ করে। অর্থাৎ স্থান কোন স্বয়ম্ভু ব্যাপার হিসেবে বোঝাপড়ায় হাজির থাকেনা বরং আমরাই পরিপার্শ্বের জগতকে স্থানিকায়িত করি। মওজুদের এই ধরণই হাইডেগারের Dasein ( হাইডেগার : ২০১০)।
অর্থাৎ লিপ্ত সত্ত্বা হিসেবে জগতের সাথে আমাদের প্রাথমিক সম্পর্ক ইন্দ্রিয় অর্থাৎ শারীরিক এবং এর উপর ভর করেই এই জগতের অন্যান্য সবকিছুর সাথে আমাদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইন্দ্রিয়ের সহযোগে জগতের সাথে আমাদের যে বিশেষ ধরণের লিপ্ততা, তা অংশগ্রহণমূলকও। এদিক থেকে, জগৎ সম্পর্কে কোনরূপ ভাবনা চিন্তার আগেই আমাদের ‘দেহ’-এ জগত সম্পর্কীয় জ্ঞান এম্বেডেড থাকে ( সামির মাহমুদ :Association des amis de Henry et Stella Corbin https://share.google/46yNB0UOTUf9mUC7t)।
দেহ জগতের সাথে যেভাবে মুখোমুখি হয়, সে প্রক্রিয়ায় আবার বিশেষ ধরণের ‘উদ্দেশ্য’ চিহ্নিত করা যায়। কারণ সমস্ত ইন্দ্রিয়ানুভূতিকে মাইক্রো-বিশ্লেষণে ‘বিশেষ অভিমুখে অভিমুখীন’ হিসেবেই পাওয়া যায়। আবার, এই কর্মযজ্ঞ কোন কিছুর প্রয়োজনীয় বিষয় বা সারবত্তাকে একটি ‘চিহ্নিত করা যায় বৈশিষ্ট্যের বস্তু’ হিসেবে রূপান্তর ঘটিয়ে দেয়।
ইন্দ্রিয়ানুভূতির প্রক্রিয়ায় আমরা যেভাবে হাজির থাকি, তা ব্যক্তিভেদে বিশেষ বিশেষভাবে স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত অর্থাৎ আমাদের হাজির থাকা কতগুলা অভ্যাসগত প্রবণতার উপর ভর করে ভিত্তিপ্রস্থর পাওয়া, যাতে মানুষের বিশেষ বিশেষ সক্ষমতা, দক্ষতা, ফিতরত, প্রবণতা, বেড়ে উঠা ইত্যাদির নির্ধারক ভূমিকা রাখে।
সুতরাং হাইডেগারের সূত্রায়নে, Dasein এর এমন একটি প্রবণতা আছে, যা দূরত্ব ঘুচিয়ে (Ent-fernung) দেয় (প্রাগুক্ত ) । আরো বিস্তৃতভাবে বললে বলা যায়, Desein নৈকট্য নিয়ে আসে এবং অবস্থানযুক্ততা তৈয়ার করে। Dasein জগতকে স্থানিকায়িত করে এমনভাবে, যাতে মওজুদ বিষয়াদির প্রত্যেকটির অবস্থানযুক্ততা তৈরী হয়। এক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় হল, Dasein এর Being-in-the-world এর জন্য মওজুদ বিষয়াদির কোনটার গুরুত্ব কি, তার একটা বিবেচনা থাকেই।
এ থেকে আরো একটা বিষয় পরিষ্কার হয় যে, Dasein ইতোমধ্যেই জগতে অবস্থানযুক্ততায় আছে। অর্থাৎ Dasein এর এই অবস্থানযুক্ততা একটা ওয়াজুদি স্থানকেই সূচিত করে। এই স্থানকে ব্যক্তিক কিংবা বিষয়গত কোনটি হিসেবেই ধরা যাবে না। কারণ আগেভাগেই ‘সাবজেক্ট-অবজেক্ট সূচিত করা অন্টিক পর্যায়ের দ্বিবিভাজন’ অন্টোলজিক্যাল পর্যায়ে প্রযোজ্য হবে না।
আমাদের উপরের আলাপকে মুখতসর এভাবে বলতে পারি : একজনের জন্য স্থান বা জগৎ হল ‘স্থানিকায়িত করা কর্মযজ্ঞ (spatializing activity)-র ফলশ্রুতি ( প্রাগুক্ত) । সুতরাং স্থান বিষয়ক আমাদের অভিজ্ঞতা কোন স্থানে পূর্ব থেকেই হাজির থাকা ভৌগোলিক স্থানাঙ্কসমূহের সমন্বয় দ্বারা নির্দিষ্ট হয় না। এ পয়েন্টের পরিসরকে বর্ধিত করে করবিন বলেন, এই স্থানের ধারণাকে কোনক্রমেই পদার্থিক বা ভৌগোলিক স্থানের প্রসারণ হিসেবে মূল্যায়ন করা যাবে না, এমনকি পদার্থিক স্থানের গুণগত res extensa ও এটি না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই স্থানকে মূল্যায়িত করতে হবে রুহের অন্তর্গত ও আভ্যন্তরীণ হ্রাসবৃদ্ধি ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হাল বা দশা দ্বারা।
হাইডেগার দর্শনের একজন একনিষ্ঠ তালেব হিসেবে করবিন কিভাবে ‘স্থানিকায়িত করার কর্মযজ্ঞ’ ধারণাকে বিপুলভাবে বর্ধিত করে তাঁর Mundus Imaginalis বা আলমুল মেসালের সূত্রায়নে কাজে লাগিয়েছেন, তার একটা ঝলক উপরের পয়েন্টে দেখা গেল।
যাকে উপরে আমরা ওয়াজুদি স্থান বা অবস্থানযুক্ততা নাম দিয়েছি, এটি অস্তিত্বে আসে রুহের স্থানিকায়িত করার সক্ষমতার কারণে। এই নিয়মকে আবিষ্কার করা যায় একটি প্রক্ষেপ জ্যামিতি (Projective Geometry)-র পরিসরে, যেখানে জ্যামিতির বৈশিষ্ট্যগুলো প্রক্ষেপণ প্রক্রিয়ার রূপান্তরের মধ্যেও অপরিবর্তিত থেকে যায় ( হেনরি করবিন : ১৯৯৯)। প্রাথমিক জ্যামিতির তুলনায় প্রক্ষেপ জ্যামিতির বিন্যাস ভিন্ন, প্রজেক্টিভ স্পেসও ভিন্ন এবং এর রয়েছে কতগুলো নির্ধারিত মৌলিক জ্যামিতিক প্রতিপাদ্য। আবার, একটি প্রদত্ত মাত্রায় প্রক্ষেপণ স্থানের দশমিক বিন্দুচিহ্ন ইউক্লিডিয়্যান স্থানের চেয়েও বেশি।
এ হাইডেগারীয় শব্দভাণ্ডারে (clavis hermeneutica) থেকেই করবিন বলতেছেন, জগতে একজনের অস্তিত্বের যে ধরণ বা হাজির থাকার রূপ, যা Da দ্বারা নির্ধারিত ও নির্দিষ্ট হয়। এটি গুনগতভাবেই ‘হুজুরী’ থেকে ভিন্ন। হুজুরী রুহানী তরক্কী সংশ্লিষ্ট ও ক্রমসোপানমূলক বৈশিষ্ট্যধারী জগতসমূহকে নিয়ে আসে, যা বুজুর্গ ও ফেরেশতাদের দ্বারা পূর্ণ।
হুজুরী কি ঘটনা?
হুজুরী তখনই আমাদের বোধগম্যতায় ধরা দিবে, যখন আমরা একে ওয়াজুদের ধরণ হিসেবে বুঝব। এই ওয়াজুদ আবার ওয়াজুদি কর্মকাণ্ডও বটে এবং এই কর্মকাণ্ড ‘জগতসমূহ’-এ সংশ্লিষ্ট থাকার বা সম্পৃক্ত থাকার ফলশ্রুতি হিসেবে প্রকাশিত (সামির মাহমুদ : Association des amis de Henry et Stella Corbin https://share.google/46yNB0UOTUf9mUC7t )।
উপরোল্লেখিত ক্রমসোপানমূলক বৈশিষ্ট্যের জগতসমূহ কোনভাবেই একটি পদার্থিক স্পেস বা মওজুদ দ্বারা চিহ্নিত হওয়ার ব্যাপার রূপে বিবেচনা করা যাবেনা। কাজে কাজেই এগুলো নিজেই অবস্থানযুক্ততায় আছে ( it itself is situative) এবং অন্টোলজিক্যাল দিক থেকে, এগুলো পদার্থিক স্থান ও ঘটনাকে অতিক্রম করে যায়।
হুজুরীর ব্যাপার ও তৎসংশ্লিষ্ট ক্রমসোপানমূলক বৈশিষ্ট্যের জগতসমূহ কি কোনভাবে প্লেটোনিক ‘আইডিয়া’ বা ‘আর্কিটাইপ’ এর জগতকে নির্দেশ করে?
আলী শরিয়ত (১৯৯১), সাইয়িদ মোহসেন মিরি (২০১৩) ও মার্থা প্লেচ-বেবেন (২০২২) তিনজনেই বলছেন, হেনরী করবিন বিশ্লেষিত Mundus Imaginalis কোনক্রমেই প্লেটোনিক আইডিয়া বা আর্কিটাইপের জগতকে নির্দেশ করে না।
প্লেটো ও নব্য-প্লেটোবাদীদের আইডিয়ার জগত থেকে এটি দুইটি দিক থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
১. জগৎ হিসেবে আলমুল মেসাল বা Mundus Imaginalis এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্টোলজিক্যাল অবস্থা।
২. এ জগতের ইমেজ বা প্রতীক (!?) গুলোর বিশেষ ধরণ ও ক্রিয়াশীলতা।
এখানে আরো একটি সু’আল উঠে এসেছে রাছেল ফ্রান্সেস লভি (২০১৭) -এর সন্দর্ভ বিবেচনায় । লভি তাঁর গবেষণা অভিসন্দর্ভে কার্ল গুস্তাভ ইয়ুং এর ‘কালেক্টিভ আনকনশাস্’ সংশ্লিষ্ট ‘আর্কিটাইপ’ কে নিয়ে এসেছেন আলমুল মেসালের প্রকৃতি নির্দেশ করতে। সুআল হল: করবিনের “a precise order of reality, corresponding to a precise mode of perception” কিভাবে দ্ব্যর্থকতা যুক্ত আর্কিটাইপের সাথে সম্পর্কিত?
আমরা জানি, বুজুর্গরা কালেকটিভ আনকানশাস্-কে “a chaotic depository of psychic residues” হিসেবেই চিহ্নিত করেছেন ( টাইটাস বার্কহার্ড : ২০০৮)। যেটির ক্ষেত্রে প্রত্যক ব্যক্তির জন্য এ সংশ্লিষ্ট আলাদা আলাদা পরিপ্রেক্ষিতও আবিস্কার করা যায়। কিন্তু এসব পরিপ্রেক্ষিতে ‘সাইকিক গঠন বা ফর্ম’-গুলো কিভাবে ‘a precise order of reality’ থেকে আলাদা আলাদা করে ফারাক করতে হবে তার জন্য কোন এম্বডেড উপায় ইয়ুং এর বিশ্লেষণে পাওয়া যায় না।
যাই হোক, করবিন বলতেছেন: আলমুল মেসাল বিশেষ বাস্তবতার – এই শব্দের উৎসে নিহিত বস্তুর অর্থে একে বোধগম্যতায় নেয়ায় যাবেনা বরং আরবি শব্দ হাকিকতের অর্থে একে বুঝতে হবে – সুনির্দিষ্ট জগতকে নির্দেশ করে, যার সাথে বিশেষ ধরণের মানে সুনির্দিষ্ট মননশক্তি সংশ্লিষ্ট ক্রিয়াও জড়িত এবং এই প্রক্রিয়া সংগঠিত হয় ‘imaginative conscience বা ‘cognitive Imagination’এর আওতায়। কাজেই কাজেই এ প্রক্রিয়ার অর্গান বলতে আমরা এখানে বুদ্ধি ও ইন্দ্রিয়ের বাইরে আরেকটি মননশক্তিকে বুঝব। করবিন এর নাম দিয়েছেন ‘imaginal’, ‘imaginary’ নয় এবং এই অর্গানের বিষয় হল ‘imago terrae’ ( করবিন : ১৯৯৯)। এটি একটি সূক্ষ্ম টপোগ্রাফি নির্দেশ করে; এমন একটি মধ্যবর্তী দুনিয়া, যা সাত আসমানকে অতিক্রম করে অষ্টম আসমানকে নির্দেশ করে।
এখানে ‘imaginary’ এর পরিবর্তে ‘imaginal’ শব্দের ব্যবহার বিশেষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত:
১. করবিন আলমুল মেসালের প্রকৃতি নির্দেশ করতে গিয়ে একে খুবই সচেতনভাবে ‘imaginary’ শব্দের আবহের সাথে সংশ্লিষ্ট কল্পনা, ফ্যান্টাসি, অবাস্তব ও ইউটোপিয়া ইত্যাদি থেকে পৃথক রাখতে চেয়েছেন।
২. পোস্ট-ক্ল্যাসিক্যাল মুসলিম দর্শনে ‘creative imagination’ যেভাবে হাজির, সে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ পরিসরকে হাইডেগারীয় ‘স্পেস’ ধারণায় ধরা যাবে কিনা- সে বিষয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন ও দ্বিধান্বিত ছিলেন।
৩. তিনি বুযর্গদের রুহানি ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতার ‘হুজুরী’-দিক ও এ সংশ্লিষ্ট ক্রমসোপানমূলক বৈশিষ্ট্যের জগতসমূহ ইত্যাদির বিশেষ ‘noetic’ কার্যক্রমের উপরও জোর দিতে চেয়েছিলেন।
গ.২.১ পর্যালোচনামূলক মন্তব্য
কিন্তু করবিনের এত মেহনতও শেষ পর্যন্ত আলমুল মেসালের প্রকৃতি ও পরিসর সংশ্লিষ্ট আধুনিক বোধগম্যতায় কোন মৌলিক অবদান বয়ে আনেনি। ইউরোপীয় প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কার আন্দোলন ও তৎপরবর্তী বুদ্ধিবৃত্তিক cum রাজনৈতিক বিন্যাসের ফলশ্রুতি হিসেবে অধিপতিশীল চিন্তায় ‘ওয়াহীপ্রসূত ধর্ম্মগুলো’ যেভাবে সীমায়িত ও বিন্যস্ত হয়েছে, সে বিশেষ পরিসরের বাইরে তাঁর বয়ান একটুও অগ্রসর হতে পারেনি। এই ‘অগ্রসর না হওয়া’ বিশেষভাবে দৃশ্যমান হয়েছে দুটি মৌলিক জায়গায়:
প্রথমত, করবিনের আলমুল মেসালের বয়ানে ‘আলমুল আখেরাত’ এর কোন উল্লেখ বা এর সংশ্লিষ্টতায় mundus Imaginalis এর বিশ্লেষণ নাই। কিন্তু আমরা জানি, নমুনা বা স্বরূপের জগতের বয়ান হিসেবে এটি অবশ্যই দুনিয়া ও পরকাল উভয়ের পরিপ্রেক্ষিতে উপস্থাপিত হবে।
হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলছেন, এ জগতের বর্ধনশীলতাসূচক বৈশিষ্ট্য একে ভৌত বা অবয়বের জগৎ ( physical realm বা عَالَمُ الأَجْسَامِ) সমতুলরূপে প্রতিভাত করে; আবার এটির অবস্তুগত রূপ বা বৈশিষ্ট্য একে রুহের জগৎ (spiritual realm বা عَالَمُ الأَرْوَاحِ)-এর সাথেও সাদৃশ্যপূর্ণরূপেও বোধগম্য করে তোলে। এই শেষোক্ত পয়েন্টটিকে বর্ধিত করে মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরি রহ. বলেছেন, নমুনাজগৎ যেমন বস্তুগত নয়, তেমনি স্থানগত বা কালগতও নয়। এ কারণে তার [এ জগতের] জন্য কোনো অবস্থান নির্ধারণ করা যাবে না।
হুজ্জাতুল ইসলাম গাযালি রহ. এর মতে, নীতিবিদ্যার নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত : সালেকদের আল্লাহর মোহাব্বতে নিবিষ্টতা, তাঁদের অনুসন্ধান ও দুনিয়াবিমুখীনতার পরিসরে আত্মার গুণাবলি, স্বভাব ও এর লক্ষ্য ইত্যাদি মানুষের কল্যাণার্থে বর্ণনা ইত্যাদি; ঠিক একই সাদৃশ্যে আমাদের অভিমত হল, আলমুল মেসালের বয়ানও আলমুল আখেরাতের স্বরূপ বিষয়ক বয়ান ছাড়া কৃত্রিম ও অপূর্ণাঙ্গ।
কিন্তু করবিনের মত গভীর মোহাক্কেকের পক্ষেও আধুনিক ইউরোপীয় জ্ঞানকাণ্ড ও জনপ্রিয় কল্পনায় ‘আলমুল আখেরাত’ এর বয়ান ও এ থেকে উদ্ভূত নৈতিকতা উধাও হয়ে যাওয়ার অন্তর্নিহিত তাৎপর্যকে ‘আলমুল মেসালের প্রকৃতি ও পরিসর বোধগম্যতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অন্যতম অনুঘটক হিসেবে বুঝা সম্ভব হয়ে উঠে নাই।
আলমুল মেসাল শুধুই কান্টীয় দ্বি-বিভাজনের – ‘ইন্দ্রীয়ের জগৎ’ ও ‘বুদ্ধির জগৎ’- মধ্যবর্তী একটি ইন্টারমেডিয়েট বা মধ্যস্থতাসূচক পরিসর নয়। কারণ বিশুদ্ধ বুদ্ধির জগৎ ধারণার সাথে সরাসরি সম্পর্ক ‘নব্য-প্লেটোবাদী নির্গমন তত্ত্ব’ (neoplatonic scheme of emanation) এর। যেটি প্রক্রিয়া ও ফলশ্রুতির দিক থেকে “ইব্রাহীমি বছিরতের সৃষ্টিতত্ত্ব”র সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং ব্যবহারিক পরিসর ও নৈতিক ব্যবস্থাপনায় ঐ প্রথমোক্ত স্কিম সরাসরি অচল ( ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান : ১৯৭৭)।
এ পরিসরে, অনেকে জগতসমূহ নির্গমনের বিভিন্ন দশার সাথে সমতুল করে তোলার জন্য নির্গমনের ধারণাকে ‘আল্লাহর তজল্লী’র সমরূপীরূপে সাদৃশ্যমূলক অর্থে ব্যবহার করেন। কিন্তু, শাহ ওয়ালি আল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি রহ. এর অথরিটিতে আমরা অবগত হই যে, আল্লাহর দ্বারা জগতসমূহের অস্তিত্ব দান তিনটি সিফাতের সাথে সম্পর্কিত। হুজ্জাতল্লাহিল বালিগা‘য় এগুলাকে ইবদা, খলক্ ও তদবির রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ঊনার আরেকটি কিতাব লামহাত এর ৩৩ নাম্বার লমহায়’য় উল্লেখিত তিনটির সাথে আরেকটি সিফাতের কথা বলা হয়েছে এবং সেটি হল তজল্লী। শাহ সাহেব তাঁর আত্মজীবনী আল–জুযউল লত্বীফ ফী তারজামাতিল ‘আব্দিয যাঈফ-এ বলেন, আল্লাহকে ঊনাকে এই কামালাতে আরবাআ (পূর্ণতা চতুষ্টয়) এর মাহাত্ম্য উপলব্ধির জ্ঞান প্রদান করেছেন।
এই পূর্ণতা চতুষ্টয় – ইবদা, খলক্, তদবির ও তজল্লী – একটি আরেকটির শর্তস্বরূপ পূর্ব থেকেই কার্যকর থাকে। এই দিক থেকে তজল্লী হল তদবিরের পূর্ণতা। কিন্তু তদবিরের পরিসর হিসেবে সৃষ্টের মধ্যে ভরে দেয়া সম্ভাবনায় আল্লাহর হস্তক্ষেপ সংগঠিত হয় চার প্রকারে, যেগুলোরে শাহ সাহেব রাহ. কবজ, বাস্–ত, ইহালা ও ইলহাম হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সুতরাং তজল্লীকে নির্গমনের সমতুল কল্পনা করে একটা অনিবার্য ও প্রাথমিক কার্যকারণসূক নির্গমন স্কিম দিয়ে আল্লাহ কর্তৃক জগতসমূহ সৃষ্টি, জগতে কর্তব্য নির্ধারণ ও কার্যসমাধার পরিসরে মানুষের এখতিয়ার ও আল্লাহর সৃজনশীল হস্তক্ষেপ বুঝার কৌশিশে একটা বড়সড় ফিকরি ‘উলম্পন’ থেকেই যায়।
দ্বিতীয়ত, আলমুল মেসালের আলাপ শুধুই বুদ্ধিবৃত্তিক কসরত না; আলমুল মেসাল সংশ্লিষ্ট বয়ানের রুহ নিহিত তযকিয়াতুন নফসে। কিন্তু করবিন কখনও-ই তযকিয়াতুন নফসের পরিসর যে ডিসিপ্লিন্যারি অনুশীলন ও ফিকিরের আবহ নিয়ে আসে, সেসব লিপ্ততার অংশীজন ছিলেন না। যদিও তিনি gnosis, alchemy এবং visionary সাহিত্যগুলো নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু কাজে কাজেই ও নীতিগত অর্থে, তিনি তযকিয়াতুন নফসের ঐতিহ্যকে “obscurantist occultism” রূপে ভাবতেন ( মোনা আবাযা : ২০০২)। এক্ষেত্রে, করবিন আলমুল মেসালের প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো টেনছেন খুবই পরোক্ষ পদ্ধতিতে। এটি তিনি খোলসা করেই বলেছেন তাঁর সেমিন্যাল রেসালাহ Mundus Imaginalis or the Imaginary and the Imaginal -এ ; তিনি বলেছেন: “we shall draw…conclusions from the experiences of those who have really been there.” ( করবিন : ৯৯)।
আলমুল মেসাল সম্পর্কীয় তুরাসি বয়ানগুলোর বুদ্ধিবৃত্তিক দিক আত্মীকরণ বা ভেদ করে যাওয়ার সক্ষমতা প্রয়োজনীয়ভাবেই হুজরী নির্ভর। অর্থাৎ উদ্দেশ্য ও উপায়ের বিবেচনায় আলমুল মেসালের বয়ান ‘প্রাইমেসি অব প্রাকটিকাল’-কেন্দ্রীক বা ব্যবহারিক। কিন্তু করবিনে তা নিছকই ‘ফিকরি’ বা চিন্তা-প্রসূত। এক্ষেত্রে, তাঁর তরিকা দ্বিতীয় পর্যায়ের ও অপ্রত্যক্ষ। কাজে কাজেই তাঁর পদ্ধতির ছাকনি-তে আলমুল মেসাল বয়ানের রুহ উঠে আসে নি; উঠে এসেছে ঐতিহাসিক, তুলনামূলক ও সম্ভাব্য ব্যাখ্যার দিকগুলো।
এখানে ‘প্রাইমেসি অব প্রাকটিকাল’ কথাটা একটা খোলাসা হওয়া দরকার। আমাদের পরিসরে, ব্যবহারিক তথা প্রাকটিকাল কথাটা যখন আনা হয়, তখন অনেকে একে শুধুই ‘প্রাইমেসি অব পলিটিকাল’ ভাবেন কিংবা ধরে নেন। আবার, এটিরে ‘প্রাইমেসি অব এথিকাল’ ধরলে, প্রথমোক্তরা প্রাইমেসি অব পলিটিকালে জোর দিতে গিয়ে দ্বিতীয়টিরে ততক্ষণাৎ প্রযোজ্য নয় বলে খারিজ করে দেন।
আসলে এরিস্টটলীয় বিন্যাস ও কান্টের তিন ক্রিটিকের আলোয় উঠে আসে, পলিটিকাল ও এথিকাল কার্যকর হওয়ার জায়গায় ও বিশ্লেষণী অর্থে যতটা না সুপষ্ট ফারাক নির্দেশক, তার চেয়েও বেশি উভয়ের জন্য শেয়ার হয় এমনকিছু কমন বিষয়-আশয় নির্দেশক। পরিসরগত এ বিশেষত্বের কারণে কার্যক্ষেত্রে পলিটিকালের সুআলে শর্তরূপে এথিকাল পূর্বথেকেই হাজির থাকে এবং এথিকালের সুআলে হাজির থাকে পলিটিকাল।
এরিস্টটলীয় অর্থে উভয়ে কার্যকর হয় ‘আর্ট অব ডুয়িং’ এর পরিসরে আর কান্টের জন্য ‘প্রাইমেসি অব প্রাকটিকাল’ মানেই এথিকাল, ল, পলিটিকাল, পাবলিক রিজনিং, পাবলিক পরিসর ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং পলিটিকালের প্রাইমেসি-তে জোর দিতে গিয়ে এথিকাল, মোরাল ইত্যাদির বিশেষ ধরণের উপস্থাপনের রাজনীতি সম্পর্কেও আমরা এখানে হুঁশিয়ারি রেখে এগিয়েছি।
অবশ্য আলমুল মেসালের করবিনকৃত বয়ানে (la metaphysique de l’imagination active) তাঁর নিজস্ব ঐতিহাসিক-দার্শনিক পরিপ্রেক্ষিত একটা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক ছিল। পাশ্চাত্য দর্শনের ফিকির ও অনুশীলনে দীর্ঘ সময় ধরে ভুলে যাওয়া “ফেরেশতার দুনিয়া”কে তিনি নতুন করে হাজির করতে চেয়েছিলেন এবং তিনি ভেবেছিলেন আধুনিকতা যে লস ও বিভ্রান্তি নিয়ে এসেছে, তা থেকে উত্তরণের একটা পন্থা হল “polar dimension of man” এর পুনরাবিষ্কার সাথে ‘ফেরেশতা তত্ত্ব’র উন্নয়ন ঘটানো। এ বিষয়গুলো তাঁর মতে, কসমোলজি ও এনথ্রোপলজির যেকোন সিরিয়াস আলোচনায় প্রাথমিক ও কেন্দ্রীয়।
ঘ. সারসংক্ষেপ
এতক্ষণ আমরা উপরে যা যা বললাম, সেসব এ পর্যায়ে মুখতসর হাজির করব:
১. প্রথমে আমরা শাহ ওয়ালি আল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি রাহ. ও ইমাম গাযালি রাহ. এর বরাতে আলমুল মেসালের প্রবলেমেটিক হাজির করেছি। এক্ষেত্রে হাদিছের কিছু বাছাইকৃত রেওয়ায়েত ছিল আমাদের নস।
২. হাদীছের রেওয়ায়েতগুলো কিভাবে বোধগম্যতায় নিতে হবে, সে বিষয়ক শাহ সাহেব ও হুজ্জাতুল ইসলামের মানহাজও আমরা আলাপ করেছি। এক্ষেত্রে উভয়ে তিনটি পদ্ধতির কথা বলেছেন; তবে, শাহ সাহেব তৃতীয় পদ্ধতি অর্থাৎ এসব রেওয়ায়েতকে যাঁরা প্রতীকি অর্থে বুঝা কিংবা উপমা হিসেবে নেয়াকে যথেষ্ট মনে করেন, তাঁরা আহলুল হক থেকে খারিজ বলে রায় দিয়েছেন। এখানে প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, আধুনিক মনন তার বিশেষ গঠন, অবস্থানবোধ ও অন্তর্নিহিত প্রবণতার কারণে ধর্ম্মের এ প্রকরণের বিষয়-আশয়গুলো প্রতীক হিসেবে ভাবতে’ই অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে বা এভাবে ভাবলেই ধর্ম্মের পজেটিভ কনটেন্ট উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে ভাবছে।
৩. দুই নাম্বারে উল্লেখিত শেষ পয়েন্টটির সাথে সংশ্লিষ্টরা অপ্রতিরোধ্যভাবেই কান্টের ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির জগতের দীর্ঘ ছায়ার নিচে যে paideia গড়ে উঠেছে, তাতে বেড়ে উঠেছেন এবং এই বিশেষ তরিকায় ভাবতে অভ্যস্ত হয়েছেন সচেতনে কিংবা অবচেতনে। কিন্তু আমরা হাইডেগারের বরাতে দেখেছি, খোদ কান্ট একটু অপরিচ্ছন্ন কিংবা অসংলগ্নভাবে হলেও ইন্দ্রিয় ও বুদ্ধির বাইরের পরিসর নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
৪. এরপরে আমরা হাইডেগারে এই তথাকথিত ফেরেশতার পরিসর নিয়ে কি আছে, সে বিষয়টি দেখার কৌশিশ করেছি। এক্ষেত্রে, একজন হাইডেগারীয় ফেনোমেনোলজিস্ট ও ইসলামবিদ্যা বিশারদ হেনরি করবিনের দ্বারস্থ হয়েছি। করবিনে উঠে এসেছে হাইডেগারের ওয়াজুদি আলোচনা একটা অর্ধসমাপ্ত ঘর, যার একটি ভিত্তিপ্রস্তর spatializing activity কে সম্ভাব্যভাবে তিনি ব্যবহার করেছেন আলমুল মেসাল বিষয়ক তাঁর বয়ান নির্মাণে।
৫. এক্ষেত্রে, করবিনের আলমুল মেসাল বয়ানে পদ্ধতিগত বিবেচনায় দুটি ভিত্তিগত সমস্যা থেকে গেছে বলে আমরা অভিমত দিয়েছি। প্রথমটি হল, আলমুল মেসাল বয়ানের দুই জোড়ী দুনিয়া ও আখেরাত সংশ্লিষ্ট হয়ে এ বয়ান আগায় নাই; দ্বিতীয়টি হল, আলমুল মেসালের করবিন কৃত বয়ান নিছকই ফিকরী। কিন্তু উদ্দেশ্য ও উপায়ের দিক থেকে বুজুর্গরা একে ‘আমলি’ হিসেবে চর্চা করেছেন ও তাঁদের কৃত বয়ানের প্যারাডাইমও এ মুখীন।
ঙ. আর্জি
সর্বশেষে মহান আল্লাহর কাছে এই ফকির তাঁর উল্লেখিত বিষয়ে দোষ-ত্রুটি, সীমাবদ্ধতা ও হ্রস্ব দৃষ্টির জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করছে আর আপনাদের কাছে আর্জি, দোয়া খায়রের ক্ষেত্রে আমাকে ভূলবেন না।
আল্লাহু আ’লাম!
বইপত্রের হদিস:
ক. আলমুল মেসাল
১. আল-গাযালি
- إِحْيَاءُ عُلُوْمِ الدِّيْنِ -মূল আরবি সংস্করণ আল-আজহার আলেমদের সম্মিলিত তত্ত্বাবধানে ১৮৮৪ -এ কায়রোর বুলাক প্রেস প্রকাশ করেছিল। বর্তমানে দারুল ফিকির, দারুল মারিফ ও দারুল মিনহাজ প্রকাশিত অনেকগুলো সংস্করণ আভেইলেবল।
- -Revival of Religious Learnings : Imam Ghazzali’s Ihya Ulum-Id-Din (চার খণ্ড): মাওলানা ফযলুল করিম কৃত আংরেজি তর্জমা এবং করাচীর দারুল ঈশাত ১৯৯৩-এ এটি প্রকাশ করে।
- The Remembrance of Death and the Afterlife : দীর্ঘ ভূমিকা ও সমালোচনামূলক টীকা সহ টি. জে. উইন্টার এহইয়াউর ৪০ নাম্বার কিতাবটি আংরেজিতে তর্জমা করেন এবং ক্যামব্রিজের দি ইসলামিক টেক্সট সোসাইটি ১৯৯৫-এ এটি প্রকাশ করে।
- -এহইয়াউ উলুমিদ্দীন (চার খণ্ড) : মাওলানা মহিউদ্দিন খান কর্তৃক বাংলায় তর্জমাকৃত এবং মদীনা পাবলিকেশন্স দ্বারা ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ এর মধ্যে ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত।
২. ইমাম ইবনুল জাওযী রহ. এবং ইমাম ইবনু কুদামা আল-মাকদিসী রহ.
- সংক্ষিপ্ত ইহইয়াউ উলূমিদ্দীন ( মুখতাসারু মিনহাজিল কাসিদীন) : মাহদি হাসান কর্তৃক বাংলায় তর্জমাকৃত ও মাকতাবাতুল আসলাফ দ্বারা ২০২২-এ প্রকাশিত।
- The Remembrance of Death and the Afterlife : ইমাম আহমদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে কুদামা আল-মাকদিসী রহ. কৃত মিনহাজিল কাসিদীন এর ৪০ নাম্বার কিতাবের আংরেজি তর্জমা এবং দারুস সুন্নাহ পাবলিশার্স ২০১৮-এ এটি প্রকাশ করে।
৩. শাহ ওয়ালি আল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভি রহ.
- حُجَّةُ اللَّهِ البَالِغَة: মূল আরবি সংস্করণ সৈয়দ সাবিক আল-আব্দুল্লাহ আল-কান্দালভী এর সম্পাদনায় ১২৯৮ হিজরি / ১৮৮১ ঈসায়ীতে বৈরুতের দারুল জিল প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে শেখ মুহাম্মদ বশির সাইফুদ্দিন সম্পাদিত একটি সংস্করণও বাজারে আসে। এখন অনেকগুলো প্রকাশকের সংস্করণ আভেইলেবল।
- The Conclusive Argument from God: মার্সিয়া কে. হার্মেনসেন কর্তৃক আংরেজিতে তর্জমাকৃত ও ই জে ব্রিল দ্বারা ১৯৯৬ -এ প্রকাশিত।
- Sufism and the Islamic Tradition : The Lamahat and Sata’at of Shah Waliullah : জি এন জালবানি কর্তৃক আংরেজিতে তর্জমাকৃত ও দি অক্টাগন প্রেস দ্বারা ১৯৮০-এ প্রকাশিত।
- হুজ্জাতুলাহিল বালিগাহ (দুই খণ্ড) : অধ্যাপক আখতার ফারুক কর্তৃক বাংলায় তর্জমাকৃত এবং রশীদ বুক হাউস দ্বারা ২০০১-এ প্রকাশিত।
৪.শাহ মুহাম্মদ ইসমাইল শহিদ রহ.
- Abaqat of Shah Muhammad Ismail Shahid : Being an exposition of Shah Waliyullah’s Sata’at and Lamahat : জি এন জালবানি কর্তৃক আংরেজিতে তর্জমাকৃত ও জেব আদাবি মারকাজ দ্বারা ১৯৮২-এ প্রকাশিত।
৫. মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরি রহ.
- রাহমাতুল্লাহিল ওয়াসিয়া ( দুই খণ্ড) : মনযূর আহমাদ কর্তৃক উর্দু থেকে বাংলায় তর্জমাকৃত ও মাকতাবাতুত তাকওয়া দ্বারা ২০২০-এ প্রকাশিত।
৬. ড. ফযলুর রহমান
- “Dream, Imagination and ‘Alam al-Mithal”, ইসলামিক স্টাডিজ গবেষণা সাময়িকীর খণ্ড ৩, নাম্বার ২, জুন ১৯৬৪ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, পৃষ্ঠা : ১৬৭-১৮০।
৭. ফুয়াদ এস. নাঈম
- “The Imaginal World (‘Alam al-Mithal) in the Philosophy of Shah Wali Allah al-Dihlawi”, ইসলামিক স্টাডিজ গবেষণা সাময়িকীর খণ্ড ৪৪, নাম্বার ৩, অঠাম ২০০৫ সংখ্যায় ছাপা হয়েছিল, পৃষ্ঠা ৩৬৩-৩৯০।
খ. ইমানুয়েল কান্ট
১.কান্ট
- Prolegomena to Any Future Metaphysics That will be able to come forward as Science : এর জন্যও আমরা দুটো আংরেজি তর্জমা এস্তেমাল করেছি। একটি গ্যারি হ্যাটফিল্ডের তর্জমা ও সম্পাদনায় ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসের ২০০৪-এ ছাপানো সংস্করণ। অন্যটি হল, পল কারোসের সম্পাদনায় দি ঔফেন কোর্ট পাবলিশিং কোম্পানির ১৯১২-এর সংস্করণ।
- -Critique of Pure Reason : আমরা কান্টের এই প্রথম ক্রিটিক -র দুটো আংরেজি তর্জমা এস্তেমাল করেছি। প্রথমটা ওয়ার্নার এস. প্লুআরের Unified Edition এবং দ্বিতীয়টি পল গায়ের ও এলেন ডাব্লিউ. উড দ্বারা তর্জমাকৃত ও সম্পাদিত আংরেজি সংস্করণ। এগুলো যথাক্রমে হ্যাকেট পাবলিশিং কোম্পানি ১৯৯৬-এ ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ১৯৯৮-এ ছাপছে।
- -Anthropology from a Pragmatic Point of View : রবার্ট বি. লৌডেন কর্তৃক আংরেজিতে তর্জমা কৃত। এ তর্জমার ভূমিকা হিসেবে কান্ট বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোকপাত করেছেন মশহুর কান্ট বিশেষজ্ঞ ম্যানফ্রেড কোহেন। ২০০৬-এ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস এ তর্জমা প্রকাশ করেছে।
- Kant’s Inaugural Dissertation of 1770 : এ সন্দর্ভটি আংরেজিতে তর্জমা করেছেন উইলিয়াম জে. ই”কপ্ এবং এতে তিনি একটি ভূমিকাও সংযোজন করেছেন। নিউইয়র্কের তৎকালীন কলম্বিয়া কলেজ কর্তৃক ১৮৯৪-এ ছাপানো সংস্করণ আমরা ব্যবহার করেছি।
- Kant on Swedenborg : Dreams of a Spirit-Seer and Other Writings : কান্টের প্রাক-পর্যালোচনা পর্বের এ লেখাগুলো আংরেজি তর্জমা সম্পাদনা করেছেন গ্রেগরি আর. জনসন এবং সুইডেনবর্গ ফাউন্ডেশন পাবলিশার্স এ সংকলনটি ২০০২-এ প্রকাশ করছে।
২. বার্নার্ড ফ্রেইডবার্গ
- Imagination in Kant’s Critique of Practical Reason : ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ২০০৫-এ এটি ছাপছে।
৩. আয়ন মহারাজ (স্বামী মেধানান্দা)
- “Kant on the Epistemology of Indirect Mystical Experience”, সোফিয়া নামক গবেষণা সাময়িকীর সংখ্যা ২, খণ্ড ৫৬, জুন ২০১৭-এ ছাপছে, পৃষ্ঠা : ৩১১-৩৩৬।
- -”Mysticism without the Mustikos? Some Reflections on Stephen Palmquist’s Mystical Kant”, কান্টিয়ান রিভিউ সাময়িকীর সংখ্যা ১, খণ্ড ২৬, ২০২০-এ ছাপছে, পৃষ্ঠা : ১০৫-১১১।
৪. ফ্রাঙ্ক থিলি
- A History of Philosophy : দর্শনের ইতিহাস বিষয়ে ক্লাসিক পর্যায়ের এই গ্রন্থে কান্টের দর্শন বিষয়ক অন্তভূক্তিটি, বিশ্লেষণী দিক থেকে চমৎকার। এলাহাবাদের সেন্ট্রাল বুক ডিপো কর্তৃক ১৯৪৯-এ ছাপানো সংস্করণ আমরা ব্যবহার করেছি।
৫. জর্জ উইলহেলম ফ্রিডরিখ হেগেল
- Lectures on the History of Philosophy : The Lectures of 1825-1826, (খণ্ড ৩) : রবার্ট এফ. ব্রাউন কর্তৃক আংরেজি তর্জমা সম্পাদনাকৃত এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ১৯৯০-এ এটা ছাপছে।
৬. হেইন্জ কিমার্লি
- “Hegel’s Eurocentric of Philosophy”, কনফ্লুয়েন্স : জার্নাল অব ওয়ার্ল্ড ফিলোসোফিজ সাময়িকীর সংখ্যা ১, ২০১৪-এ ছাপছে, পৃষ্ঠা : ৯৭-১১৭।
৭.কার্ল মার্কস, ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
- জর্মান ভাবাদর্শ : গৌতম দাস কর্তৃক বাংলায় তর্জমাকৃত এবং ফরহাদ মজহার “জর্মান ভাবাদর্শ : এখনকার পড়া এখনকার কাজ” নামে এই তর্জমার জন্য দীর্ঘ ভূমিকা লিখে দিয়েছেন। আমাদের প্রবন্ধেের বিশেষ কিছু জায়গায় এ ভূমিকার প্রস্তাবনাগুলোর সাথেই পর্যালোচনামূলক সম্পৃক্ততা আছে। এ তর্জমা ২০০৯-এ আগামী প্রকাশনী ছাপছে।
গ. মার্টিন হাইডেগার
১.হাইডেগার
- Kant and the Problem of Metaphysics : রিচার্ড টাফ্ট কর্তৃক আংরেজি তর্জমার বর্ধিত পঞ্চম সংস্করণ এবং এটি ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ১৯৯৭-এ ছাপছে।
- Being and Time : জোয়ান ষ্টামবাউ কর্তৃক আংরেজি তর্জমাকৃত। এ তর্জমার ফোরওয়ার্ড লিখেছেন ডেনিস জে. স্মিড। ষ্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক প্রেস ২০১০-এ এটি ছাপছে।
২.পিটার ই. গর্ডন
- Continental Divide : Heidegger, Cassires, Davos : এটি মশহুর দাবোস বাহাস নিয়ে লিখিত এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ২০১০-এ এটি ছাপছে।
ঘ. মারিও ব্যুংঙ্গে
- Scientific Materialism : রেইড্যাল দ্বারা ১৯৮২-এ প্রকাশিত।
- (Treatise on Basic Philosophy 5 ) Epistemology and Methodology I : Exploring the World
- (Treatise on Basic Philosophy 7 ) Epistemology and Methodology III : Philosophy of Science and Technology ( Part I): Formal and Physical Sciences
- (Treatise on Basic Philosophy 7 ) Epistemology and Methodology III : Philosophy of Science and Technology ( Part II): Life Science, Social Science and Technology
Treatise on Basic Philosophy-এর সবগুলো খণ্ডের মত উপরের তিনটি খণ্ড ও হল্যান্ডের রেইড্যাল পাবলিশিং কোম্পানি দ্বারা প্রকাশিত। খণ্ডগুলো প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে ১৯৮৩ ও ১৯৮৫-এ।
ঘ. হেনরী করবিন
১.করবিন
- Swedenborg and Esoteric Islam : এই মনগ্রাফে মূলত করবিনের Mundus Imaginalis, or The Imaginary and the Imaginal এবং Comparative Spiritual Hermeneutics লেখা দুটো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এগুলো আংরেজি তর্জমা করেছেন লিওনার্ড ফক্স এবং ১৯৯৯-এ সুইডেনবার্গ ফাউন্ডেশন এ মনগ্রাফ ছাপছে।
- Creative Imagination in the Sufism of Ibn Arabi : করবিনের লেখা ক্লাসিক এ গ্রন্থ আংরেজিতে তর্জমা করছেন রাল্ফ ম্যানহেইম এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ১৯৬৯-এ এটা ছাপছে।
২. টাইটাস বার্কহার্ড
- An Introduction to Sufi Doctrine : ওয়ার্ল্ড উইজডম কর্তৃক ২০০৮-এ ছাপানো।
৩. আলী শরিয়ত
- “Henry Corbin and the Imaginal : A Look at the Concept and Function of the Creative Imagination in Iranian Philosophy”, ডায়োজিনিস গবেষণা সাময়িকীর নাম্বার : ১৫৬, উইন্টার ১৯৯১ সংখ্যায় ছাপানো হয়েছিল, পৃষ্ঠা : ৮৩-১১৪।
৪. সামির মাহমুদ
- “Alam al-Mithal or Mundus Imaginalis”, সামির মাহমুদের এই লেখাটি নিচে উল্লেখিত সাইট থেকেই সংগৃহীত। সাইট এড্রেস : Association des amis de Henry et Stella Corbin https://share.google/46yNB0UOTUf9mUC7t
৫. সাইয়েদ মুহসেন মি’রি
- “Henry Corbin and the Resolution of the Modern Problems by Recourse to the Concept of the Imaginal Realm”, ইরানের আল-মোস্তফা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সাময়িকী আল–মোস্তফা -র খণ্ড দুই, সংখ্যা ৩, উইন্টার ২০১৩ সংখ্যায় ছাপানো হয়েছিল এবং পৃষ্ঠা : ১১৭-১৪২।
৬.মার্থা প্লেস-বেবেন
- Mundus imaginalis : On some liminal adventures of the imagination”, এন্যালিজা ই এগজিসটেন্সা গবেষণা সাময়িকীর নাম্বার : ৫৮, ২০২২ সংখ্যায় ছাপানো হয়েছিল এবং পৃষ্ঠা: ৫-১৫।
৭. রাছেল ফ্রান্সেস লভি
- Paths with Heart : Transformative Journeys in the Imaginal Realm”, ২০১৭ -এ যুক্তরাজ্যের ল্যাংক্যাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পাদিত পিএইচডি অভিসন্দর্ভ।
ঙ. ড. মুঈনুদ্দীন আহমদ খান
- রাষ্ট্রদর্শন শাস্ত্রে মুসলিম অবদান [ প্রথম খণ্ড ] : মুকদ্দমা -উপক্রমণিকা : ১৯৭৭ -এ চুনতি ডেপুটি বাড়ী, চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত।
- The Political Crisis of the Present Age : Capitalism, Communism and What Next? : বায়তুশ শরফ ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট ১৯৯০-এ এটি ছাপছে।