[ঢাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্য চর্চায় হাকিম হাবিবুর রহমান (১৮৮১-১৯৪৭) এক প্রাগ্রসর নাম। একই সঙ্গে সাহিত্য, ইতিহাস, সাংবাদিকতা ও ইউনানী চিকিৎসায় ভূমিকা রেখেছেন। পাণ্ডুলিপি, মুদ্রা ও অস্ত্রের যে বিস্তর সংগ্রহশালা তিনি গড়ে তুলেছিলেন; তা এখনে পর্যন্ত গবেষকদের পথ দেখিয়ে চলছে। তার গুরুত্বপূর্ণ রচনার মধ্যে রয়েছে আসুদগান-এ-ঢাকা, ঢাকা পাঁচাস বারাস পেহলে, মাসাজিদ-এ-ঢাকা এবং সক্রেটিসের জীবনী হায়াত-এ-সুকরাত। এছাড়া বিভিন্ন পত্রিকায় তিনি লিখে গেছেন অসংখ্য প্রবন্ধ।
‘বাংলায় ইলমে হাদিস’ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয় ১৯৩৪ সালে, আজমগড় থেকে প্রকাশিত ‘মারিফ’ পত্রিকায়। এখানে হাকিম হাবিবুর রহমান তার সময়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খুব সংক্ষেপে তুলে ধরেছেন বাংলায় হাদিস চর্চা ঐতিহ্য। যদিও খসড়া হিসেবেই লিখেছিলেন সম্ভবত, অনেকটা চিঠির আদলে। তারপরও এই প্রবন্ধটির বিষয়বস্তু ও প্রকাশকাল উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। সে বিবেচনা থেকেই লেখাটি অনুবাদ করা হলো। অনুবাদ করেছেন আহমেদ দীন রুমি]
বাংলা ও হাদিস চর্চা নিয়ে আমার কাছে তথ্য নেই যে লিখবো। তারপরও আমার হাতে যে সব ছিল, সেগুলো নিয়ে একটা খসড়া বানিয়ে দিচ্ছি। আপনারা এটাকে গুছিয়ে ভালো করে প্রকাশ করতে পারেন। তাতে আমার উপর থেকে অন্তত ফরজে কেফায়ার দায় মোচন হয়।[1]
সম্ভবত বাকিপুরের সম্পূর্ণ ক্যাটালগ আপনার কাছে নেই[2]। যদি না থাকে (আমার অনুমান) তাহলে সংগ্রহ করে নিন। আমার কাছে রয়েছে। কিন্তু এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি। নিজের না। যাহোক, দুই খণ্ডই হাদিসশাস্ত্রের ওপর দারুণ রচনা।
বাকিপুর লাইব্রেরিতে সহিহ বুখারির একটা খণ্ড রয়েছে। গ্রন্থটি অনুলেখন করেছেন একডালার মুহম্মদ বিন ইয়াজদান বখশ শেরওয়ানি। একডালার অবস্থান নিয়ে তর্ক রয়েছে। কেউ মনে করেন একডালা অবস্থিত মালদা জেলায়। কেউ মনে করেন ঢাকা জেলায়। যেটাই হোক, জায়গাটা যে বাংলায়, তা নিয়ে নিশ্চিত। মুহম্মদ বিন ইয়াজদান বখশ পরিচিত খাওয়াজাগি শেরওযানি নামে। তিনি নিজেই পাণ্ডুলিপি লিখেন এবং উপহার হিসেবে পেশ করেন বাংলার বাদশাহ আলাউদ্দিন হোসাইন শাহকে। বাদশা ছিলেন সৈয়দ বংশের। তার শাসনকাল ছিল ৯০৫ থেকে ৯২৫ হিজরি। আমি বইয়ের পাণ্ডুলিপির পাঠ থেক কিছু অংশ কপি করে পাঠালাম। এটা সমকালীন অন্যান্য অনেক বিষয়ে আলো ফেলবে, পাশাপাশি আলো ফেলবে শেরওয়ানির বৌদ্ধিক দক্ষতার উপর। এবং এটাও প্রমাণ হবে যে ফিরিঙ্গি মহলের মত একটা ঐতিহ্য পাণ্ডুয়াতে ছিল। পুরো বোখারি শরীফই ছিল বাংলার সুলতানের সংগ্রহশালায়।

মোটাদাগে দ্বিতীয় ঘটনা প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ের। সেখানে একটি বিশাল মসজিদ রয়েছে। মসজিদটি নির্মিত হয়েছে পূর্বোল্লেখিত হোসাইন শাহের পুত্র নুসরাত শাহের সময়ে। নির্মিত হয়েছে হোসাইন শাহের মৃত্যুর ঠিক দুই বছর পরেই। এর নির্মাতা মালিকুল উমারা তকিউদ্দিন ইবনে মইনুদ্দিন, তিনি মূলত পরিচিত মোবারক আলি ইবনে মজলিস মুখতার ইবনে মজলিস সরওয়ার নামে। লিপির একটা একটা কপি সংযুক্ত করে পাঠানো হলো, দয়া করে ২ নম্বর লিপিটি দেখবেন। এই সময়ের অন্য লিপি, আরো পুরাতন লিপিও আমার সংগ্রহে রয়েছে। এখানে একটা শব্দ রয়েছে; যা অন্য কোন লিপিতে নেই। এর থেকে প্রমাণ হয় সৈয়দ শাসনের এই আমলে বাংলায় হাদিস চর্চা ছিল ব্যাপকভাবেই। সে সময় মুহাদ্দিসদের সম্মানের চোখে দেখা হতো। এছাড়া এই সময়ে জ্ঞানীদের বলা হতো দানেশমান্দ। ফিকহের আরেক নাম ছিল দানিশমান্দি। সোনারগাঁওয়ের সেই মসজিদের পাশেই অবস্থিত হজরত ইবরাহিম দানিশমান্দের মাজার। এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
তৃতীয় বিষয়টি এই মুহূর্তে স্মরণ নেই। কেবল মনে করতে পারছি সোনারগাঁওয়েই হজরত মখদুম-উল মুলুকের শিক্ষা ও বেড়ে উঠা[3]। তার মাতৃনিবাস ও শ্বশুড়বাড়িও সোনারগাও। এই ব্যাপারে শামসুল উলামা নওয়াব ইমদাদ ইমাম সাহেবের সঙ্গে একটু যোগাযোগ করুন। তিনি এ বিষয়ে প্রবন্ধ লিখেছেন। এ ব্যাপারে কেবল তিনিই সূত্র দিতে পারেন।
এর পর বাংলায় হাদিস চর্চার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। কোম্পানি আমলে মৌলভি সৈয়দ সদরুদ্দিন মুসায়ী বোহারে মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানেও হাদিস শিক্ষার কোনো উল্লেখ নেই। পরবর্তীতে ওয়ারেন হেস্টিংস কোলকাতায় মাদরাসা-ই আলিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। এ মাদরাসার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল মুফতি, সদরুস সুদুর, সদরে আলা, সদরে আমিন ও কোর্টের কাজি তৈরি করা। ফলে শিক্ষাক্রমে হাদিস অন্তভূক্ত হয়নি। এটা নিয়ে আপনারাই লিখেছেন। মাদরাসা-ই আলিয়াতে মওলানা বাহরুল উলুম একটি মাত্র বই লিখেছেন হিদায়াতুস সরফ নামে। এর অনেক পরে হাদিস অধ্যয়ন করা বর্ধমানে জনপ্রিয় হতে থাকে। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন মওলানা মুহম্মদ বর্ধমানী। তিনি ছিলেন মিয়া সাহেবের প্রথম দিকের একজন ছাত্র[4]।
কোলকাতা মাদরাসার পঞ্চম বছরে তাজুল মুহাদি্দসিন এর ক্লাস শুরু হয়। এটা তো খুব সাম্প্রতিক ঘটনা। এখন যে হাদিস চর্চা হচ্ছে তা প্রধানত দিল্লি ও দেওবন্দের বদৌলতে। আরবাইন বা চল্লিশ হাদিস নামে যে কিছু পুস্তিকা প্রকাশিত হচ্ছে; তার বয়স ৩০-৩৫ বছরের বেশি না। মাদরাসার এই সংকটের সময়েও যে জিনিসটা আনন্দের সেটা হলো, কিছু পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়া মাদরাসায় সিহাহ সিত্তাহ চর্চার ব্যবস্থাও রয়েছে। শিক্ষার জন্য তারা বাংলা থেকে আসাম পর্যন্ত তারা ছুটে যাচ্ছেন। মওলানা হোসাইন আহমদ মাদানি এই বিষয় সত্যায়ন করতে পারেন।
১৭৭৫ সালে ঢাকার শাহ নুরী লিখেছেন কিবরাতে আহমার[5]। বইয়ের মধ্যে তিনি দাবি করেছেন, ছাত্র অবস্থায় তিনি হাদিসের জন্য মাশরিকুল আনওয়ার ও মানতিকের জন্য শরহুল মাতালি’ শিক্ষাগহণ করেন।
মূল বিষয়ে ফেরা যাক। হিন্দুস্তানে হাদিসশাস্ত্র বিশারদদের ব্যাপারে। শেখ মুবারক বিন আরজানি বেনারসীর লেখা একটি পাণ্ডুলিপি মাদারিজুল আখবার। অনন্য ও অসম্পূর্ণ সে পাণ্ডুলিপি (নং-৩৬৪) বাকিপুর লাইব্রেরিতে। এটি সংকলন করা হয়েছে সিহাহ সিত্তাহ থেকে। সাজানো হয়েছে ফিকহি ক্রম বজায় রেখে। অনেকটা মিশকাতুল মাসাবিহের মতো। যদিও শেখ মুবারক কে ছিলেন, সে সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না।
কিতাব ফিল হাদিস (নং-৩৭১) শিরোনামে একটা পাণ্ডুলিপির পেছনে লেখা রয়েছে, বইটি সমাপ্ত হয়েছে ১১ জমাদিউস সানি, বুধবার, ১১২৯ হিজরি। হাতের লেখা ফকির মোল্লা মুহম্মদ ইবরাহিম হাদরামী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন)। লেখা হয়েছে ইকবাল ইজলালের কন্যা বিবি আয়েশার পড়ার জন্য। তত্ত্বাবধান করেছেন ইবরাহিম আলি। এটাকে নারীদের মধ্যে হাদিস চর্চা ও প্রসার হিসেবে রাখতে পারেন।
এছাড়া জুবদাতুল আনসার গ্রন্থের (সংখ্যা-২৫৭) পাণ্ডুলিপিটাও দেখতে পারেন। এটা মূলত উসুলে হাদিসের কিতাব। এর লেখক তাকি বিন শাহ মুহম্মদ আবদুল মালিক লাহোরি। ক্যাটালোগারের দাবি, তিনি হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর লোক। কিন্তু তার পরিচয়? গবেষণা করা যেতে পারে, তিনি হিন্দুস্তানের মানুষ।
সম্ভবত আপনারা শেখ মুহম্মদ বিন শেখ পীর মুহম্মদ বিন শেখ আবুল ফাতাহ বিলগ্রামির কথা উল্লেখ করেননি। অথবা বাদ করে গেছে। কেউ আমার কাছ থেকে মারিফ পত্রিকার ওই সংখ্যাটা ধার নিয়েছে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও আর ফেরত দেয়নি। ফলে আমি বিষয়টি ঠিক নিশ্চিত হতে পারছি না। যাহোক, তার করা একটা সহিহ বুখারির পাণ্ডুলিপি (নং- ১৩৯) রয়েছে বাকিপুর লাইব্রেরিতে। ভদ্রলোক ১১৫৯ হিজরিতে জীবিত ছিলেন। তিনি শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভির ছাত্র ছিলেন। তার সংস্করণে পুরোপুরি হরকত যুক্ত করে ১১৮৭ হিজরিতে সম্রাট শাহ আলমকে পাঠানো হয়।
শরহে আরাবাইন (নং ২৩৫) পাণ্ডুলিপিটি নিয়ে ক্যাটালগে লেখা রয়েছে, এই টীকাকার (ভারতীয় আলেম) এর ভাষ্য, তিনি আরবাইন পাণ্ডুলিপি তৈরি করেছেন ইমাম নববীর রচনায় টীকাকে অনুসরণ করে। সেই টীকা লিখেছিলেন মুহম্মদ বিন ইসমাতুল্লাহ বিন মাহমুদ আল বুখারি। এই বাঞ্জারি সাহেব ছিলেন মৌলভি মুহাম্মদ হাশিমের ছাত্র এবং শেখ আলী মুত্তাকির ধারার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিতাবে উল্লিখিত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির রচনার তারিখ হলো ১০৩১ হিজরি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ভদ্রলোক আসলে কে?
এই বিষয়ের ওপর আবদুল কাদিরর বদাউনিও একটা বই লিখেছেন। আমারও দৃষ্টিগোচর হয়নি আগে, বইটি প্রকাশিত হয়েছে আকবরের যুগে। আকবরের যুগে হাদিস শাস্ত্র চর্চায় বেশ অগ্রগতি ঘটেছিল। সম্ভবত মোল্লা বাদাউনি শায়খুল ইসলাম হজরত সেলিম চিশতিকে তার হাদিস শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক ইবাদত (জিকির) সম্পর্কে লিখেছেন। আমার কাছে শামায়েলে তিরমিজির একটা পাণ্ডুলিপি রয়েছে, পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেছেন মোল্লা হাসান। তিনি হলেন আকবরের যুগের অন্যতম ইমাম মোল্লা ইয়াকুব শারফি কাশ্মিরীর ছেলে। পাণ্ডুলিপি লেখা হয়েছে ১০৫৫ হিজরির দিকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিকার টীকাও লিখেছেন। আমি এটা দিয়ে মূলত একথাই বুঝাতে চাইছি; সে সময়টাই প্রস্তুতি হচ্ছিলো হজরত মুজাদ্দেদি আলফে সানি ও মওলানা আবদুল হক দেহলভির আগমনের।
এছাড়া আমার কাছে ইমাম যাহাবির লেখা আল কাশিফি ফি রিজাল বইটি রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি খুবই দুষ্প্রাপ্য। আমার নিজের অবহেলার কারণেই শেষ পৃষ্ঠাটা হারিয়ে গেছে। প্রথম পৃষ্ঠায় মওলানা আবদুল হকের পিতা মওলানা সাইফুদ্দিন নিজেরে হাতে লিখেছেন। তার মানে সেই সময়ে মানুষের মাঝে হাদিস চর্চার একটা প্রবণতা গেছিল।
মুহাদ্দিস মওলানা রফিউদ্দিন সাফাভির মাজার অবস্থিত আগ্রায়। শুনে আনন্দিত হবেন, সেখানে কয়েক দফা চেষ্টা করা হয়েছে গম্বুজ নির্মাণের; কিন্তু সফল হয়নি। এটা আমার কাছে মনে হয় আগ্রার বিদয়াতীদের কাজ। আমাকে বলা হয়েছে, হিন্দুস্তানে যত বিদআত হয়, তার অর্ধেক হয় কেবল আগ্রাতেই।
আল্লাহ আপনাকে সফলতা দান করুন। আমার ব্যাপারে আপনার শব্দের ব্যবহারে আমি লজ্জিত; একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা বোধ করেছি। বিশেষ করে যে মনোযোগ আপনি দিয়েছেন ‘সালাসা গাসসালা’র[6] প্রতি, তার জন্য।
সংযুক্তি হিসেবে বুখারির যে লেখাটুকু পাঠালাম, সেটা আমি করিয়েছি এক ছাত্রকে দিয়ে। ছাত্রটি বর্তমানে আরবিতে এম এ অধ্যয়নরত। তার লেখার বিষয় যেটাই হোক, তার হাতের লেখা যথেষ্ট স্পষ্ট।
সালাম।
ফুটনোট
[1] ‘মারিফ’ পত্রিকা সেই সময়ে হিন্দুস্তানে হাদিস চর্চার একটা সিরিজ প্রকাশ করছিল। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই বাংলায় হাদিস চর্চা নিয়ে লেখার অনুরোধ জানানো হয় হাকিম হাবিবুর রহমানকে। এইটা মূলত তার জবাব।
[2] বাকিপুর লাইব্রেরিই বর্তমানে পাটনার খোদা বখশ লাইব্রেরি। বাংলার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বহু নথিপত্র এখনো সেখানে সংরক্ষিত।
[3]হজরতশরফুদ্দিনইয়াহিয়ামানেরিপরিচিতমখদুম-উলমুলকনামে। তিনি ১২৬৩ সালে বিহারে জন্মগ্রহণ করেন। সোনারগাঁওয়ে শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামার কাছে শিক্ষাগ্রহণ করেন। তার কন্যাকেই বিয়ে করেন।দুই যুগ এখানে অতিবাহিত করার পর তিনিফেরতযান।
[4]সম্ভবত আলওয়ারেরসুফিও আলেমমিয়া সাহেব (রহ.)।
[5] শাহ নুরী বাঙালি অষ্টাদশ শতাব্দীর ঢাকার প্রভাবশালী সুফি। ঢাকার নওয়াবরা তার দরবারে যাওয়া আসা করতেন। গবেষক, সগীর হাসান মাসুমীর মতে, তার বই কবিরাতে আহমার লেখা হয় ১৭৬৩ সালে।
[6] প্রবন্ধকারের লেখা বই